মূল অংশে যান
← সব লেখা

ফিচার গাইড

বকেয়া এজিং রিপোর্ট: কোন বকেয়া কত পুরোনো দেখে আদায়ের পরিকল্পনা

সব বকেয়া এক রকম নয়। বকেয়া এজিং রিপোর্টে ০–৩০, ৩১–৬০, ৬১–৯০ আর ৯০ দিনের বেশি পুরোনো বকেয়া আলাদা করে দেখে প্রতিটি দলের জন্য কী করবেন, তা এখানে ধাপে ধাপে।

১১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ মিনিটে পড়ুন

· সোসাইটি কিপার টিম
বকেয়া এজিং রিপোর্ট: কোন বকেয়া কত পুরোনো দেখে আদায়ের পরিকল্পনা

মাস শেষে বকেয়ার মোট অঙ্ক দেখে অনেক কমিটিই চিন্তায় পড়ে যায়, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে বুঝতে পারে না। ৳৩ লাখ বকেয়া মানে কি ১০০ জন এক মাস দেননি, নাকি ১০ জন এক বছর ধরে কিছুই দেননি? বকেয়া এজিং রিপোর্ট ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর দেয়, আর উত্তর জানলে আদায়ের কৌশলও বদলে যায়।

বকেয়া এজিং রিপোর্ট কী

এজিং (aging) মানে বকেয়ার বয়স। রিপোর্টটি প্রতিটি সদস্য বা ফ্ল্যাটের বকেয়াকে কত দিন ধরে অপরিশোধিত আছে, সেই অনুযায়ী চারটি ভাগে সাজায়:

দল বকেয়ার বয়স সাধারণ অর্থ
ক ০–৩০ দিন সাম্প্রতিক, প্রায়ই শুধু ভুলে যাওয়া
খ ৩১–৬০ দিন এক মাস পেরিয়েছে, মনে করানো দরকার
গ ৬১–৯০ দিন অভ্যাস তৈরি হচ্ছে, ব্যক্তিগত যোগাযোগ দরকার
ঘ ৯০ দিনের বেশি পুরোনো বকেয়া, কমিটির সিদ্ধান্ত দরকার

সাধারণ বকেয়া তালিকা জানায় কে কত টাকা দেবেন। এজিং রিপোর্ট জানায় সেই টাকা কত পুরোনো, আর পুরোনো বকেয়া আদায় করা সবচেয়ে কঠিন।

ধাপ ১: রিপোর্টটি খুলুন ও ছেঁকে নিন

সোসাইটি কিপারে বকেয়ার রিপোর্ট অংশে এজিং রিপোর্ট পাবেন। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট দিনে, যেমন ১০ তারিখে, রিপোর্টটি খুলুন:

  1. পুরো সমিতির চিত্র দেখুন—চার দলে মোট কত টাকা
  2. ৯০ দিনের বেশি দলটি আগে খুলুন, কারা আছেন দেখুন
  3. দরকার হলে রিপোর্ট এক্সেলে নামিয়ে কমিটির সভায় দিন

ধাপ ২: প্রতিটি দলের জন্য আলাদা পদক্ষেপ

সবাইকে একই কড়া চিঠি পাঠালে নিয়মিত সদস্যরা অপমানিত বোধ করেন, আর পুরোনো বকেয়াদাররা গুরুত্ব দেন না। তাই দল ধরে কাজ করুন।

০–৩০ দিন: শুধু মনে করিয়ে দিন

এদের বেশিরভাগই ভুলে গেছেন। মাসিক বকেয়া রিমাইন্ডার এসএমএস চালু থাকলে এই দলের বড় অংশ নিজে থেকেই পরিশোধ করেন। আলাদা কিছু করার দরকার নেই।

৩১–৬০ দিন: ভদ্র কিন্তু স্পষ্ট বার্তা

নমুনা এসএমএস:

"সম্মানিত সদস্য, আপনার ফ্ল্যাটের দুই মাসের সার্ভিস চার্জ বকেয়া আছে। অনুগ্রহ করে এ মাসের মধ্যে পরিশোধ করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে অফিসে যোগাযোগ করুন। — কোষাধ্যক্ষ"

কালেক্টরকে এই দলের তালিকা দিন, যাতে রুটিন সফরে তিনি এই বাড়িগুলোতে আগে যান।

৬১–৯০ দিন: ব্যক্তিগত যোগাযোগ

এখানে ফোন বা সাক্ষাৎ দরকার। কমিটির একজন সদস্য বা সেক্রেটারি নিজে কথা বলুন। অনেক সময় দেখা যায় সমস্যা অন্য—বিলের অঙ্ক নিয়ে আপত্তি, কোনো অভিযোগের সমাধান হয়নি, বা সাময়িক আর্থিক সংকট। কারণ জানলে সমাধানও সহজ হয়।

৯০ দিনের বেশি: কমিটির সিদ্ধান্ত

এই দলের প্রতিটি নাম কমিটির সভায় আলোচনা করুন। কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ, লিখিত নোটিশ, বা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অন্য পদক্ষেপ—যা-ই হোক, সিদ্ধান্ত সভার কার্যবিবরণীতে লিখে রাখুন। আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবলে আগে গঠনতন্ত্র দেখুন এবং একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

টিপস: কাউকে ছাড় বা মওকুফ দিলে সোসাইটি কিপারে তা দ্বিতীয় একজনের অনুমোদন ছাড়া চূড়ান্ত হয় না। তাই পুরোনো বকেয়ায় সমঝোতা করলেও তার স্বচ্ছ রেকর্ড থাকে।

ধাপ ৩: মাসে মাসে তুলনা করুন

এক মাসের রিপোর্ট দিয়ে বেশি কিছু বোঝা যায় না। ধরুন ২০০ সদস্যের একটি কল্যাণ সমিতিতে এ মাসে ৯০+ দলে ১২ জন আছেন। পরের মাসে সংখ্যাটা ১৫ হলে বুঝবেন ৬১–৯০ দলের লোকেরা আরও পিছিয়ে পড়ছেন, অর্থাৎ ব্যক্তিগত যোগাযোগ কাজ করছে না। আর ৯ হলে বুঝবেন আপনার পদক্ষেপ ফল দিচ্ছে।

প্রতি মাসে সভায় এই সংক্ষিপ্ত তুলনাটা উপস্থাপন করুন:

  • চার দলে মোট টাকা, আগের মাসের পাশাপাশি
  • ৯০+ দলে নতুন কারা যোগ হলেন
  • কারা পুরোনো দল থেকে পরিশোধ করে বেরিয়ে গেলেন

কালেক্টরের সঙ্গে তালিকা ভাগ করুন

এজিং রিপোর্ট শুধু কমিটির জন্য নয়। প্রতি মাসে কালেক্টরকে রোডভিত্তিক একটি ছোট তালিকা দিন—কোন বাড়ির কত দিনের বকেয়া। দৈনিক আদায় রিপোর্টে দেখা যায় কোন কালেক্টর কোন রোড থেকে কত তুললেন। দুটো মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায় পুরোনো বকেয়ার বাড়িগুলোতে আসলেই যাওয়া হচ্ছে কি না, নাকি শুধু সহজ বাড়িগুলো থেকেই টাকা উঠছে।

যা এড়িয়ে চলবেন

  • বকেয়াদারদের নাম নোটিশ বোর্ডে টাঙানো—এতে সম্পর্ক নষ্ট হয়, আর আপনার গঠনতন্ত্রে অনুমতি না থাকলে বিতর্কও হতে পারে
  • শুধু মোট অঙ্ক দেখে সবাইকে একই চিঠি পাঠানো
  • পুরোনো বকেয়া চুপচাপ মুছে ফেলা—সব সমঝোতা নথিভুক্ত রাখুন

ঋণ, সঞ্চয় আর কিস্তির হিসাব রাখতে হয় এমন সমবায়ের জন্য আমাদের সমিতি কিপার — সমবায় সমিতির সফটওয়্যার আছে; আর ছোট সঞ্চয় দল বা নতুন সমিতি মোবাইলেই সহজে হিসাব রাখতে পারে সমিতি কিপার লাইট অ্যাপ দিয়ে।

সোসাইটি কিপারে বকেয়া এজিং রিপোর্ট

সোসাইটি কিপারে মাসিক বিল আর পেমেন্ট এন্ট্রি থেকে বকেয়া এজিং রিপোর্ট নিজে থেকেই হালনাগাদ থাকে, তাই কাউকে আলাদা করে হিসাব কষতে হয় না। সঙ্গে মাসিক রিমাইন্ডার এসএমএস আর কালেক্টরভিত্তিক দৈনিক আদায় রিপোর্টও থাকে। আরও গাইডের জন্য দেখুন আমাদের ব্লগ।

#বকেয়া এজিং #বকেয়া তালিকা #টাকা আদায় #রিমাইন্ডার এসএমএস #সমিতি