মূল অংশে যান
← সব লেখা

হিসাব

বছর শেষের হিসাব বন্ধ: সমিতির কোষাধ্যক্ষের সম্পূর্ণ চেকলিস্ট

অর্থবছর শেষ হওয়ার আগে ও পরে কী কী মেলাতে হবে—নগদ, ব্যাংক, বকেয়া, দেনা, অগ্রিম, রেওয়ামিল—একটি ধাপে ধাপে চেকলিস্ট, যাতে অডিট আর সাধারণ সভা ঝামেলাহীন হয়।

১১ অক্টোবর ২০২৬ ৫ মিনিটে পড়ুন

· সোসাইটি কিপার টিম
বছর শেষের হিসাব বন্ধ: সমিতির কোষাধ্যক্ষের সম্পূর্ণ চেকলিস্ট

সাধারণ সভার তারিখ ঘোষণা হয়ে গেছে, অডিটর কাগজ চাইছেন, অথচ খাতায় এখনো কয়েক মাসের ব্যাংক চার্জ তোলা হয়নি আর দুটো অগ্রিম খোলা পড়ে আছে। বছর শেষের হিসাব বন্ধ করাটা একদিনের কাজ নয়, কিন্তু একটি পরিষ্কার চেকলিস্ট থাকলে কাজটা কয়েকটি সন্ধ্যার মধ্যেই গুছিয়ে ফেলা যায়।

বছর শেষের হিসাব বন্ধ মানে কী

হিসাব বন্ধ (year-end closing) মানে অর্থবছরের শেষ দিন পর্যন্ত সব লেনদেন খাতায় তোলা, সব ব্যালান্স মিলিয়ে দেখা, আর চূড়ান্ত রিপোর্ট—রেওয়ামিল, আয়-ব্যয় হিসাব, প্রাপ্তি-প্রদান হিসাব ও উদ্বৃত্তপত্র—তৈরি করা। এরপর ওই বছরের এন্ট্রি আর বদলানো হয় না, আর শেষ ব্যালান্সগুলোই নতুন বছরের প্রারম্ভিক জের হয়।

আপনার সমিতির অর্থবছর কবে শুরু ও শেষ, আর হিসাব কতদিনের মধ্যে সভায় পেশ করতে হবে—তা গঠনতন্ত্রে দেখে নিন।

ধাপ ১: শেষ দিনের আগেই যা সেরে রাখবেন

অর্থবছর শেষের দুই-তিন সপ্তাহ আগে থেকে:

  1. বকেয়া ভাউচার শেষ করুন — অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সব ভাউচার অনুমোদন বা বাতিল করুন।
  2. খোলা অগ্রিমের হিসাব চান — কর্মচারী বা কমিটি সদস্যদের কাছে থাকা অগ্রিমের বিল জমা নিন।
  3. সরবরাহকারীদের বিল সংগ্রহ করুন — যে কাজ বা সেবা এ বছর হয়েছে, তার বিল এ বছরেই তুলুন, টাকা পরে দিলেও।
  4. বকেয়া আদায়ে শেষ চেষ্টা — বকেয়া তালিকা ধরে সদস্যদের মনে করিয়ে দিন।

নোটিশের নমুনা: "সম্মানিত সদস্য, সমিতির অর্থবছর শেষ হচ্ছে। অনুগ্রহ করে [তারিখ]-এর মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করুন, যাতে বার্ষিক হিসাবে আপনার হিসাব হালনাগাদ দেখানো যায়।"

ধাপ ২: শেষ দিনে নগদ ও ব্যাংক

  • নগদ গণনা — শেষ দিনের কাজ শেষে ক্যাশবাক্স ও পেটি ক্যাশ গুনে দুজনের স্বাক্ষরে একটি গণনা-পত্র (নোটের ধরনসহ) রাখুন।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট — প্রতিটি হিসাবের শেষ দিনের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করুন।
  • ব্যাংক হিসাব মেলানো — না-ভাঙানো চেক ও পথে থাকা জমার তালিকাসহ রিকনসিলিয়েশন বিবরণী বানান।
  • সুদ ও চার্জ — বছরের সব ব্যাংক সুদ ও চার্জ খাতায় উঠেছে কিনা নিশ্চিত করুন।

ধাপ ৩: পাওনা আর দেনার তালিকা

বছর শেষের হিসাব বন্ধ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দুটো তালিকা:

তালিকা কী থাকবে কিসের সাথে মেলাবেন
সদস্যের বকেয়া প্রতিটি ফ্ল্যাট/সদস্যের নাম ও বকেয়া খাতার "সদস্যের পাওনা" ব্যালান্স
সরবরাহকারীর দেনা প্রতিটি সরবরাহকারীর অপরিশোধিত বিল খাতার "সরবরাহকারী দেনা" ব্যালান্স
অগ্রিম ও জামানত ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকা সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যালান্স

তালিকার মোট আর খাতার ব্যালান্স না মিললে আগে কারণ খুঁজুন। অনেক বছরের পুরনো, আদায় অযোগ্য বকেয়া মওকুফ বা বাদ দিতে চাইলে তা অবশ্যই কমিটি বা সাধারণ সভার লিখিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জার্নাল ভাউচারে করুন।

ধাপ ৪: সমন্বয় এন্ট্রি

বছরের শেষে কিছু হিসাব সমন্বয় করতে হয়, যেমন:

  • বকেয়া খরচ — বছরের শেষ মাসের বিদ্যুৎ বিল পরের মাসে এলেও খরচটা এ বছরের।
  • অগ্রিম প্রাপ্ত চাঁদা — পরের বছরের জন্য আগাম পাওয়া টাকা এ বছরের আয় নয়।
  • অবচয় (depreciation) — জেনারেটর, সিসিটিভি বা আসবাবের মতো স্থায়ী সম্পদ থাকলে।

কোন সমন্বয় আপনার সমিতির জন্য প্রযোজ্য আর কীভাবে হিসাব করবেন, তা অডিটর বা হিসাববিদের সাথে আলোচনা করে নিন।

ধাপ ৫: রেওয়ামিল ও চূড়ান্ত রিপোর্ট

সব এন্ট্রি শেষ হলে রেওয়ামিল (trial balance) দেখুন—ডেবিট আর ক্রেডিটের মোট সমান হতে হবে। তারপর প্রতিটি বড় ব্যালান্সে চোখ বুলান: কোনো খরচের খাত কি অস্বাভাবিক বড়? কোনো খাতে উল্টো দিকের ব্যালান্স (যেমন নগদ ঋণাত্মক)? এগুলো সাধারণত ভুল এন্ট্রির লক্ষণ।

এরপর তৈরি করুন:

  1. প্রাপ্তি ও প্রদান হিসাব
  2. আয় ও ব্যয় হিসাব
  3. উদ্বৃত্তপত্র (balance sheet)
  4. বকেয়া ও দেনার সংযুক্ত তালিকা

টিপ: রিপোর্টের সাথে এক পাতার সহজ সারাংশ দিন—বছরে মোট আদায়, মোট খরচ, বড় পাঁচটি খরচের খাত, বছর শেষে হাতে ও ব্যাংকে কত। সাধারণ সভায় সদস্যরা এটাই সবচেয়ে মন দিয়ে পড়েন।

ধাপ ৬: নতুন বছরের প্রস্তুতি

চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুমোদনের পর পুরনো বছরে আর এন্ট্রি দেবেন না। কোনো ভুল পরে ধরা পড়লে নতুন বছরে সংশোধনী এন্ট্রি দিন এবং কারণ লিখে রাখুন। শেষ ব্যালান্সগুলো নতুন বছরের প্রারম্ভিক জের হিসেবে মিলিয়ে নিন, আর সব কাগজ—ভাউচার, স্টেটমেন্ট, গণনা-পত্র, রিপোর্ট—একটি বার্ষিক ফাইলে রাখুন।

আপনার সংগঠন যদি সঞ্চয়-ঋণভিত্তিক সমবায় হয়, তাহলে সমিতি কিপার দেখে নিন — সদস্য, সঞ্চয়, লোন ও কিস্তির পুরো হিসাব এক জায়গায়। আর অল্প সদস্যের সমিতির জন্য আছে ছোট সমিতির হিসাব রাখার অ্যাপ — সমিতি কিপার লাইট।

সোসাইটি কিপারে বছর শেষের কাজ

সোসাইটি কিপারে রেওয়ামিল, লেজার, নগদ ও ব্যাংক বই, প্রাপ্তি-প্রদান, আয়-ব্যয়, উদ্বৃত্তপত্র, সদস্যের বকেয়া ও সরবরাহকারীর দেনার রিপোর্ট সারা বছরের অনুমোদিত ভাউচার থেকে নিজে থেকেই তৈরি থাকে, আর এক্সেলে নামানো যায়। ফলে বছর শেষে আলাদা করে খাতা যোগ না করে শুধু মেলানো আর সমন্বয়ে মন দেওয়া যায়। কীভাবে কাজ করে দেখতে ফ্রি ডেমো নিন।

#বছর শেষের হিসাব #অডিট প্রস্তুতি #রেওয়ামিল #কোষাধ্যক্ষ